ফসলি জমির মাটি বিক্রি নিয়ে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ সেনবাগে উত্তেজনা, তদন্তে পুলিশ
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর শাহাপুর গ্রামের পূর্বালী ব্রিকস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে কাবিলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আহমেদ পুলা উত্তর শাহাপুর এলাকার একটি ফসলি জমি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রয় করেন। তার পরিকল্পনা ছিল জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা।
তবে পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষের বাধার মুখে তিনি সেই মাটি বিক্রি করতে পারেননি। দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় মাটি কাটার কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার অনুসারী মীর হোসেন টিটু (৩৮), ফকির (৩৫) ও সাইফুল (৩৫)।
বাধা ও সংঘর্ষ
স্থানীয় বাসিন্দা মুজিব, আশ্রাফুল ও তারেক ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটায় বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে পুলার সমর্থকদের তীব্র আক্রমণের মুখে প্রতিপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ সময় তাদের একটি এফজেড মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য
ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মো. মুজিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা সংঘর্ষে জড়িত নন। তার দাবি, ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা বেআইনি হওয়ায় এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আহমেদ পুলার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অবস্থান
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার জানান, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সত্য।
তিনি বলেন, “দুই পক্ষই মূলত মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। টপ সয়েল কাটা আইনত নিষিদ্ধ। জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে নেওয়ার পর তা নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং এতে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।”
আইন ও পরিবেশগত দিক
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অপসারণ করলে জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে দেশে টপ সয়েল কাটা ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
.jpg)
No comments