নিখোঁজের ১১ দিনেও মিলেনি হিফজ ছাত্র তন্ময়ের খোঁজ, দিশেহারা পরিবার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি মাদরাসার হিফজ বিভাগের মেধাবী ছাত্র সামিয়াত আরাফাত তন্ময়ের (১৩)। একমাত্র ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা, হতাশা আর অজানা শঙ্কা। প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাদের কাছে আতঙ্ক আর অপেক্ষার এক দীর্ঘ প্রহর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিখোঁজ তন্ময় উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছলিম উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন মনুর ছেলে। তিনি স্থানীয় গনিপুর জামিয়া ইসলামীয়া মাহমুদিয়া মাদরাসা-এর হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিলেন। মাদরাসায় পড়াশোনায় মনোযোগী ও ভদ্র স্বভাবের হিসেবে পরিচিত ছিল তন্ময়। শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছেও সে ছিল প্রিয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় তন্ময়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর হচ্ছে উদ্বেগ।
ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, তিনি প্রায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন এবং সারাক্ষণ সন্তানের অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার চার দিন পর, গত ৫ এপ্রিল তন্ময়ের বাবা বেগমগঞ্জ মডেল থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির খবর না পাওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি আফসারুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের দিন আসরের নামাজের সময় তন্ময় ও তার এক সহপাঠী কুমিল্লার সাইফুল ইসলাম সবার অগোচরে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের দুজনের কেউই আর ফিরে আসেনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষও তাদের খোঁজে উদ্যোগ নেয়, তবে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তন্ময়ের সন্ধান পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বজনরা। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি তন্ময়ের সন্ধান দিতে পারলে তাকে উপযুক্ত সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পরিবার। তন্ময়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে—০১৮৯৭১৫৪২৩২ এবং ০১৮৮৪০২৬০১৩।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, জিডির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তন্ময়ের সন্ধান বের করে পরিবারকে স্বস্তি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এখন পুরো পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকাবাসী প্রার্থনা করছেন—যেন দ্রুত ফিরে আসে তন্ময়, আবার আগের মতো হাসিমুখে ভরে ওঠে তার পরিবারের ঘর।
No comments