মৃত্যুর আগে সময়কেই সবচেয়ে বেশি ভয় পেতেন জুবিন গার্গ
গারিমার বক্তব্যে উঠে আসে, জীবনের শেষ কয়েক বছরে সময় নিয়ে প্রায়ই কথা বলতেন জুবিন। সময়ের দ্রুত চলে যাওয়া তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলত।
শেষ জীবনে সময় নিয়ে গভীর ভাবনা
সম্প্রতি ‘Panchayat Aaj Tak Assam’ নামের একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে গারিমা গার্গ বলেন, শেষ কয়েক বছরে জুবিন প্রায়ই সময়ের কথা বলতেন।
গারিমা জানান, তখন তিনি বিষয়টির গভীরতা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। কিন্তু এখন মনে হয়, জুবিনের জীবনে ঘটে যাওয়া একাধিক ব্যক্তিগত শোকই হয়তো তাঁকে এমন ভাবনায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
একের পর এক ব্যক্তিগত শোক
গারিমার মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে জুবিন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের কয়েকজন মানুষকে হারান।
প্রথমে তাঁর মা, পরে বোন এবং এরপর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। এই ঘটনাগুলো তাঁর মানসিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলে।
এই ধারাবাহিক শোকের অভিজ্ঞতা জুবিনকে জীবনের অনিশ্চয়তা এবং সময়ের মূল্য নিয়ে আরও বেশি ভাবতে বাধ্য করেছিল বলে মনে করেন তাঁর স্ত্রী।
দুই দশকের দাম্পত্য জীবন
Zubeen Garg এবং Garima Garg-এর বিয়ে হয় ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের দাম্পত্য জীবন ছিল।
সংগীতজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারকে সবসময় গুরুত্ব দিতেন জুবিন—এমনটাই জানিয়েছেন গারিমা।
সিঙ্গাপুরে রহস্যময় মৃত্যু
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর Singapore-এ মারা যান জুবিন গার্গ। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে।
প্রথম দিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
পরে Himanta Biswa Sarma বলেন, জুবিন গার্গের মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। এরপর Government of Assam একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করে।
বর্তমানে মামলাটি ষড়যন্ত্র, অবহেলার কারণে মৃত্যু এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারায় তদন্তাধীন রয়েছে।
সবার শিল্পী হয়ে ওঠা জুবিন
আসামের সংগীতাঙ্গনে জুবিন গার্গ ছিলেন এক অনন্য নাম। তাঁর গান, সুর ও অভিনয়—সব মিলিয়ে তিনি উত্তর-পূর্ব ভারতের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একজন হয়ে উঠেছিলেন।
ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ মানুষের শিল্পী। তাঁর অকাল মৃত্যু শুধু আসাম নয়, পুরো ভারতীয় সংগীতাঙ্গনেই শোকের ছায়া ফেলেছিল।

No comments