রাশিয়ার তেল ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ, বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে বাংলাদেশ সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (তারিখ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে নিজ দপ্তরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোঁজিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ তেল ও এলএনজি মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিকল্প উৎস হিসেবে দেশটি থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যু রয়েছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “রাশিয়ার তেল ও এলএনজি—সবই আছে। আমরা বিকল্প উৎস হিসেবে দেশটি থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। জ্বালানি একটি বড় বিষয়। সেখানে আমাদের কী সম্ভাবনা রয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”
তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক
পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বেলা সাড়ে তিনটায় হওয়ার কথা থাকলেও সংসদ অধিবেশনের কারণে তা পিছিয়ে বিকেল পাঁচটায় শুরু হয়। এর আগে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মন্ত্রীর দপ্তরে অপেক্ষা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোঁজিন।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক, জ্বালানি সহযোগিতা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
রাশিয়ার তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেই উদাহরণ অনুসরণ করে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরূপ ছাড় চেয়েছে।
তিনি বলেন, “ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমরাও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের ছাড় চেয়েছি।”
তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শিগগিরই বিদ্যুৎ
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পটির উৎপাদন কার্যক্রম আগামী এপ্রিলে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “জুন বা জুলাইয়ের মধ্যে হয়তো প্রথম বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। শুরুতে আমরা প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাব।”
এই বিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাশিয়ার তেল পরিশোধনের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশে রাশিয়ার তেল পরিশোধন করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রথমে আন্তর্জাতিক ছাড় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা আগে ছাড়ের জন্য আবেদন করেছি। সেটি পাওয়া গেলে পরবর্তী বিষয়গুলো দেখা যাবে।”
এ ছাড়া রাশিয়ার এলএনজি সরবরাহের সম্ভাবনাও রয়েছে এবং এ বিষয়ে রাশিয়া সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমাধান খুঁজছে সরকার
মন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যেকোনোভাবে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে সরকার কাজ করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পরও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ ছাড় চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

No comments