Header Ads

সৌদি আরবে স্ট্রোক করে নোয়াখালীর যুবকের মৃত্যু: পরিবারে শোকের মাতম


রুজি-রোজগারের আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমানো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের যুবক মো. জামশেদ (২৯) স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। হঠাৎ মৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামের বাড়িতে চলছে আহাজারি।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। সৌদি আরবের আবা শহরের কিং খালেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিলো অকাল মৃত্যু

নিহত জামশেদ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজ উদ্দিন বেপারী বাড়ির আবু নাছেরের ছেলে। বাবা-মায়ের বড় ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করতে দূর প্রবাসে গিয়ে কাজ করছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জামশেদ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও স্বভাব-শান্ত ছেলে ছিলেন। বিদেশে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। তাঁর আয় দিয়ে কষ্টে থাকা পরিবারে ধীরে ধীরে স্বচ্ছলতা ফিরছিল। কিন্তু মাত্র ২৯ বছর বয়সেই সব থেমে গেল।

১৪ মাস আগে জীবিকার টানে সৌদি আরবে যাত্রা

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ মাস আগে ভালো কাজের সুযোগ পাওয়ার আশায় সৌদি আরবে যান জামশেদ। নাজরান এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কর্মস্থলে স্থানীয় ও প্রবাসী সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল।

যে ঘরটিতে তিনি থাকতেন, সেটিতেই বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা জানান, হঠাৎ মাথা ঘোরার পর তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বুঝতে পারেন তিনি স্ট্রোক করেছেন।

সহকর্মীদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ—কিন্তু বাঁচানো গেল না

ঘটনাস্থলে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী কিং খালেদ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাঁকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নাজরান এলাকায় থাকা অন্যান্য প্রবাসীরাও শোকাহত হয়ে পড়েন।

গ্রামের বাড়িতে আহাজারি—মা-বাবার হৃদয়বিদারক কান্না

জামশেদের মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। বৃদ্ধ বাবা আবু নাছের বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মা ছেলের আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানও অসহায়ভাবে কাঁদছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান—
“জামশেদ ছিল গ্রামের শান্ত-ভালো ছেলে। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।”

মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে আবেদন

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন নিহতের চাচাতো ভাই ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুল আলম রিপুল। তিনি বলেন—
“আমরা পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তবে বিদেশ থেকে মরদেহ আনতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত যেন মরদেহ দেশে আনা যায়, সেই দাবি জানাচ্ছি।”

পরিবার, স্বজন, স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ সবাই সরকার, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সৌদি দূতাবাসের কাছে দ্রুত ফেরত আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশিদের মৃত্যুহার বাড়ছে বিদেশে

প্রবাসীকল্যাণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বহু বাংলাদেশি শ্রমিক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার কারণে আকস্মিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকসহ নানান কারণে অনেক প্রবাসীর মৃত্যু হচ্ছে।

তাদের মতে, কর্মস্থলে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, বিশ্রামের সুযোগ এবং সচেতনতা তৈরি করতে পারলে এসব মৃত্যু কমানো সম্ভব।

No comments

Powered by Blogger.