Header Ads

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ধাক্কা: ইউরোপের শিল্পখাত বিপর্যস্ত, সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়—এটি সরাসরি প্রভাব ফেলছে ইউরোপের শিল্পখাতে। পুনরুদ্ধারের পথে থাকা ইউরোপের অর্থনীতি আবারও নতুন সংকটে পড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামালের ঘাটতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বিপর্যয় পুরো শিল্পব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

কাঁচামালের দাম বেড়েছে, কমছে মুনাফা

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা বছরের শুরু থেকে প্রায় দ্বিগুণ। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে দ্রুতগতিতে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তবে আগামী দুই বছরে জার্মানির অর্থনীতি প্রায় ৪০ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

জার্মানির ‘গেশেম’: সংকটের বাস্তব চিত্র

জার্মানির রাসায়নিক শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘গেশেম’ এই পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। গৃহস্থালি পরিষ্কারক ও ব্রেক ফ্লুইড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি টানা কয়েক ত্রৈমাসিক ধরে মুনাফা হারাচ্ছে। মালিক মার্টিনা নিগসোয়াঙ্গারের মতে, “বর্তমান পরিবেশে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।” দুই দশকের মধ্যে প্রথমবার তারা কর্মী ছাঁটাই ও নতুন বিনিয়োগ স্থগিতের কথা বিবেচনা করছে।

ইউরোপে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র

ইউরোপ এমনিতেই উচ্চ জ্বালানি দামের চাপের মধ্যে ছিল। এর ওপর ইরান ও কাতারের গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার কারণে সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হয়েছে। ফলে জার্মানির বিদ্যুতের পাইকারি দাম যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের তুলনায় দ্বিগুণ। উৎপাদন খরচ বাড়ায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও দুর্বল হচ্ছে।

সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সার, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিকসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সরবরাহকারী খুঁজে পাচ্ছে না। গত এক বছরে জার্মানিতে দেউলিয়া হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছে।

বড় কোম্পানিগুলোর অবস্থাও সংকটপূর্ণ

ল্যানক্সেস, বিএএসএফসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই ও উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্স ও ডেনমার্কের প্লাস্টিক ও খেলনা শিল্পও এশিয়ার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সমস্যার মুখে। লেগো জানিয়েছে, তারা জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি পরিকল্পনাকে জটিল করছে।

সরকারি ভর্তুকি যথেষ্ট নয়

ইউরোপের দেশগুলো শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখতে ভর্তুকি দিচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।

উপসংহার

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। এর ছায়া ইউরোপের শিল্পখাতে গভীরভাবে পড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও শিল্প প্রতিযোগিতামূলকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.