🚨 পদ্মায় দৌলতদিয়া ঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: সর্বশেষ পরিস্থিতি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ২৫ মার্চ ২০২৬, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।
📍 ঘটনাস্থল ও দুর্ঘটনার বিবরণ
দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি হঠাৎ স্লিপ করে নদীতে পড়ে যায়। সেই সময় বাসটিতে প্রায় ৪০–৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ হিসেবে হঠাৎ পন্টুনে ভারসাম্যহীনতা এবং স্লিপেজকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে।
পদ্মার অতি স্রোতস্বিনী পানিতে পড়ে বাসটি মুহূর্তেই প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।
🆘 উদ্ধার অভিযান: এক নজরে অগ্রগতি
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত ইউনিট যোগ দেয় এবং বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ মোতায়েন করা হয়।
✔️ উদ্ধার হওয়া যাত্রী
- ১১–১৭ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে
- তাদের মধ্যে চিকিৎসক নুসরাত (২৯) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
- কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে সাঁতরে উঠে আসতে সক্ষম হন
❌ নিহত
প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করা দুটি মরদেহ:
- রেহেনা বেগম (৬০)
- মার্জিনা বেগম (৫৫)
⚠️ উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ
- দুর্ঘটনার সময় ঝড়বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে বাধাগ্রস্ত করে
- বাসটি পন্টুনের নিচে চলে যাওয়ায় দরজা ও জানালা ভাঙা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে
- আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাসের ভেতরে এখনো যাত্রী আটকা থাকতে পারে
উদ্ধারকারী দলকে পানির তীব্র স্রোত ও কম দৃশ্যমানতার সঙ্গেও যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
🙏 শোক ও সহানুভূতি
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্যের কামনা করছি। একই সঙ্গে নদীপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের আরো কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

No comments