ঝড়ের রাতে চরে আটকা লঞ্চ, ১৭ ঘণ্টা পর কোস্টগার্ডের উদ্ধার: নোয়াখালী-ভোলা নৌপথে চাঞ্চল্য
নোয়াখালীর ঢাকা-হাতিয়া নৌরুটে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে চরে আটকা পড়ার ঘটনায় শতাধিক যাত্রীকে টানা ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে কোস্টগার্ডের একটি উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে ভোলা জেলার ইলিশা ঘাটে নিরাপদে পৌঁছে দেয়। দীর্ঘ সময় পানিবিহীন অবস্থায় চরে আটকে থাকার কারণে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে প্রবল ঝড়ের মুখে পড়ে লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে লঞ্চটি ভোলার চরভৈরবী এলাকায় চরে উঠে আটকা পড়ে। আকস্মিক এই ঘটনায় লঞ্চে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সব যাত্রীর মধ্যে চরম ভীতি ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যাত্রীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান। খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন ভোলার অধীনস্থ কালিগঞ্জ স্টেশনের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার কাজল কুমার নাথের নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্ধার অভিযানে দক্ষতার সঙ্গে সকল যাত্রীকে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে প্রতিকূল আবহাওয়া ও পানির স্বল্পতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিলেও কোস্টগার্ড সদস্যরা তা সফলভাবে মোকাবিলা করেন।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাট থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথের শেষ ভাগে, অর্থাৎ রাতের দিকে ইলিশা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। এতে লঞ্চটি দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলে এবং একপর্যায়ে চরে আটকা পড়ে।
পরদিন জোয়ার এলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে লঞ্চটি সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় লঞ্চের ভেতরেই আটকা পড়ে থাকেন। পরে কোস্টগার্ডের দ্রুত তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হলে যাত্রীরা স্বস্তি ফিরে পান।
এদিকে, এ ঘটনার পর নৌপথে চলাচলকারী যানবাহনের নিরাপত্তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাম আবহাওয়া সতর্কতা মেনে চলা এবং আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

No comments