ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা, কেঁপে উঠল তেল আবিব
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি আবাসিক ভবনে শক্তিশালী রকেট আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে। আশপাশের বেশ কয়েকটি ভবনের জানালা ভেঙে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও ধ্বংসের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত রকেটটি লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের এই হামলার লক্ষ্য ছিল তেল আবিবের ওই এলাকায় অবস্থিত একটি ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও তাদের মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাব হিসেবেই এই আঘাত হানা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরাইল এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক দিনে ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চল এবং প্রতিবেশী এলাকাগুলোতে একের পর এক রকেট, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে একাধিক রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
পাল্টা হামলার দাবি ইসরাইলের
হামলার পরপরই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং সম্ভাব্য নতুন হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সতর্ক অবস্থায় বাসিন্দারা
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সামুদ্রিক পথ এবং অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়তে শুরু করেছে।
সূত্র
আল জাজিরা, দাইজী ওয়ার্ল্ড

No comments