Header Ads

ট্রাম্পের জন্য ইরান যুদ্ধ থেকে ‘জয় ঘোষণা’ করে ফিরে আসাই হবে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত: সাবেক মার্কিন জেনারেল

 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) স্টিভ অ্যান্ডারসন মনে করেন, এখনই ‘জয় ঘোষণা’ করে যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে কৌশলী ও বুদ্ধিমান পদক্ষেপ হতে পারে। তাঁর মতে, সংঘাতটি বর্তমানে যে দিকে এগোচ্ছে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টিভ অ্যান্ডারসন বলেন, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনছে না। বরং এর ফলে দেশটিতে আরও কঠোর ও চরমপন্থী শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনীর হামলায় ইরানের কিছু সামরিক স্থাপনা এবং সম্পদ ধ্বংস হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মোটেও দুর্বল হয়ে পড়েনি। বরং এই বাহিনীর দ্রুত পুনর্গঠন ও পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সক্ষমতা রয়েছে।

অ্যান্ডারসনের ভাষায়, “এই মুহূর্তে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বিজয় ঘোষণা করে কৌশলগতভাবে সরে আসা প্রেসিডেন্টের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।”

যুদ্ধের বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ

এদিকে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপও দ্রুত বাড়ছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের দেওয়া এক তথ্যে জানা গেছে, সংঘাতের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ১১৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বহুগুণ বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই কৌশলগত জলপথ কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি: পরিস্থিতি ‘চমৎকার’

তবে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ‘চমৎকার অবস্থায়’ রয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অধিকাংশ নৌযান ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির হাতে এখন খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে।

ইরানের কড়া অবস্থান

অন্যদিকে ট্রাম্পের এই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার এক কড়া বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) স্পষ্ট করে দিয়েছে, সামরিক হামলা বন্ধ না হলে এই পথ দিয়ে “এক লিটার তেলও” যেতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি নিয়েও হুঁশিয়ারি

একইসঙ্গে খামেনি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ও সামরিক শক্তিকেও এই সংঘাতে সক্রিয় করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংঘাতটি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: দ্য হিল


No comments

Powered by Blogger.