সরকারি সড়কের ইট আত্মসাতের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার সড়কের প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ উন্নয়নের জন্য সরকার প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল পুরাতন ইট উত্তোলন করে মাটি ভরাটের পর পুনরায় ইট বসিয়ে সড়কটি ব্যবহারযোগ্য করা। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়নি এবং বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাত করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে আনুমানিক অর্ধলক্ষ টাকা ব্যয় করা হলেও বাকি অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন মুকুলের পাশাপাশি সাবেক ইউপি সদস্য সৌরভ হোসেন স্বপনের নামও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সড়কের পুরোনো ইট তুলে ফেলার পর পুনরায় বসানো হয়নি; বরং নামমাত্র মাটি ফেলে কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক থেকে উত্তোলিত কিছু ইট স্থানীয়ভাবে অন্যত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ইটের একটি অংশ দেলোয়ার হোসেন মুকুল তার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য রাস্তার পাশের একটি ঘরের মেঝেতে লাগিয়েছেন। এ বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে। অনেকেই বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে পুরো এলাকার জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থের অপচয় নয়, বরং জনস্বার্থের প্রতি চরম অবহেলা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন মুকুল প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন যে কিছু ইট তার ভাইয়ের গাড়ি রাখার ঘরের মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুত ওই ইটগুলো পুনরায় সড়কে এনে বসানো হবে এবং কাজ সম্পন্ন করা হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য সৌরভ হোসেন স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সিরাজপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজগর হোসেন বলেন, “প্রকল্পের কাজ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছেন মুকুল ও স্বপন। পিআইও কর্মকর্তার নির্দেশে ফেব্রুয়ারিতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে তারা সড়কে পুনরায় ইট বসানোর কাজ সম্পন্ন করেননি। এতে আমাদেরও কিছুটা গাফিলতি ছিল। এখন দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিল প্রদান করা হয়েছিল। তবে কাজের যে ঘাটতি রয়েছে, তা এখন দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছে, সঠিক তদারকি থাকলে এ ধরনের অনিয়ম ঘটত না। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
.png)
No comments