Header Ads

৩ সন্তান রেখে পালিয়ে বিয়ে, অপহরণ মামলায় নারীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় তিন সন্তান রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করার পর সন্তানদের অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে এক ডিভোর্সি নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার ভীমপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে নার্গিস আক্তার মুক্তা (৩৫) প্রায় ১৩ বছর সংসার করার পর তার তিন সন্তান—দুই জমজ ও এক পুত্র—রেখে পরকীয়া প্রেমিক, বিবাহিত মিজানুর রহমান মিঠুর সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এ ঘটনার পর তার ব্যবসায়ী স্বামী মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং আপোষনামা অনুযায়ী তিনি তার পাওনা বুঝে নেন।

পরবর্তীতে সন্তানরা তাদের বাবার কাছে চট্টগ্রামে বসবাস করতে থাকে এবং সেখানকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। তবে কিছুদিন পর নতুন করে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ডিভোর্সি নারী নার্গিস আক্তার মুক্তা তার মা ও দ্বিতীয় স্বামীর পরামর্শে অর্থের লোভে সন্তানদের অপহরণের পরিকল্পনা করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তে জানা যায়, বোরকা পরিহিত এক নারীকে দিয়ে কৌশলে স্কুল থেকে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। শিশুদের দাদী মারা গেছেন—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের স্কুল থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করলে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া প্রথমে অভিযুক্ত নারীর দুই চাচা মো. খোকা ও মো. জসিমের কাছে বিষয়টি জানান। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআর-২৬১/২৫ নম্বরে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের এসআই মো. নোমান তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। তদন্তে অপহরণের পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা গেছে।

মামলার বাদী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত নারী সন্তানদের অপহরণের হুমকি দিয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত অভিযুক্ত নার্গিস আক্তার মুক্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি চাটখিল থানায় পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া বলেন, “আমি ও আমার সন্তানরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্ত নারী, তার মা ও সহযোগীরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং মব তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

No comments

Powered by Blogger.